বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬
২০১৬: হলিউডে সাফল্য–ব্যর্থতার খতিয়ান
চলচ্চিত্রে কী কী বিষয় নিয়ে এ বছর বেশি আলোচনা হয়েছে? চলুন দেখে নিই এক নজরে:
বছরজুড়ে নতুন ছবির পরিবর্তে পুরোনো ছবির পরবর্তী পর্ব বা সিক্যুয়েল মুক্তির প্রবণতা ছিল বেশি। এসবের অনেকগুলোই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। তাই ব্যর্থ বা ফ্লপ সিক্যুয়েলের তালিকা এ বছর অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে দ্য হান্টসম্যান: উইন্টারস ওয়ার ,
ইন্ডিপেনডেন্স ডে: রিসার্জেন্স,
অ্যালিস থ্রু লুকিং গ্লাস , এক্স-মেন: অ্যাপোকালিপ্স ইত্যাদি ছবির নাম উল্লেখ করতেই হয়। তবে সফল ছবির তালিকাটাও নেহাত ছোট নয়, যেমন
ক্যাপ্টেন আমেরিকা সিভিল ওয়ার কিংবা ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান-এর কথা বলা যায়।
সিক্যুয়েলের পাশাপাশি ২০১৬ সালে প্রিক্যুয়েলও ছিল। মানে যে ছবি তৈরি হয়েছে তার পূর্ববর্তী ঘটনা নিয়ে তৈরি ছবিকেই বলে প্রিক্যুয়েল। হ্যারি পটারখ্যাত জে কে রাউলিংয়ের কাহিনি নিয়ে
ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস অ্যান্ড হোয়্যার টু ফাইন্ড দেম ছবিটি ব্যবসাসফল হয়েছে। স্বভাবতই এ ছবির সিক্যুয়েল দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন ভক্ত–অনুরাগীদের অনেকে। তাই প্রিক্যুয়েল হিসেবে ছবিটি সফল হয়েছে বলতে হয়। তা ছাড়া সরাসরি প্রিক্যুয়াল না হলেও এ বছর মুক্তি পাওয়ার পর ডেডপুল এবং রোগ ওয়ান: অ্যা স্টার ওয়ার্স স্টোরি ছবি দুটোরও পরবর্তী পর্বের জন্য দর্শকের অপেক্ষা যেন আরও বেড়েছে।
অভিনয়শিল্পীদের বৈচিত্র্য ছিল এ বছর। ২০১৫ সালে অভিযোগ ছিল, অস্কার পুরস্কার শ্বেতাঙ্গরাই বেশি পেয়েছেন। ২০১৬ সালে সেই দুর্নাম হয়তো কিছুটা ঘুচেছে। হলিউডের ছবিতে বহুবর্ণিল রঙের শিল্পীদের সমাবেশ ঘটেছে। সুপারহিরোদের নিয়ে ছবি এ বছর সফল যেমন হয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার মুখও দেখেছে। ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার বেশ ভালো করেছে। আর সন্তোষজনক ব্যবসা করেছে ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান। তবে সুইসাইড স্কোয়াড ও ভালো করতে পারেনি।
অ্যানিমেশন ছবিগুলো এ বছরও আলোচনার শীর্ষে ছিল। জুটোপিয়া ,
ফাইন্ডিং ডোরি , সিক্রেট লাইফ অব পেটস , অ্যাংরি বার্ডস মুভি ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় বেশ এগিয়ে আছে। এসব চলচ্চিত্রের কাল্পনিক চরিত্রগুলোকে দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে বেশ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, হলিউডের জগতে একসময় এরা মানুষ চরিত্রকে ছাপিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতেই পারে।
সংগীতনির্ভর চলচ্চিত্রগুলো (মিউজিক্যাল) এ বছর দর্শকপ্রিয় হয়েছে। সিং স্ট্রিট -এর মতো ছবি দিয়ে বছরটা শুরু হয়েছিল। তরুণ এক আইরিশ বালকের কাহিনি এটি, যে কি না রক ব্যান্ডের জগতে প্রতিষ্ঠার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দ্য জাংগল বুক ছবিটিও ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে।
ফ্লোরেন্স ফস্টার জেনকিনস ছবিতে ভুল সুরের গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে অস্কারজয়ী মেরিল স্ট্রিপ নজর কেড়েছেন সবার। অ্যানিমেটেড কমেডি সসেজ পার্টি এবং মোয়ানা দিয়ে শেষ হয়েছে ২০১৬ সাল। দুটি ছবিতেই সংগীতের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। এ রকম ছবির তালিকায় লা লা ল্যান্ডও বড় সংযোজন।
কামরান-শফিকের কৃতজ্ঞতা
শুধু তামিম বদলায়নি
২০১৫ নাকি ২০১৬—কোন বছরটা বেশি ভালো কেটেছে আপনার? তামিম ইকবাল নিশ্চিত ধাঁধায় পড়ে যাবেন। প্রথমটিকে যদি বলেন ‘অসাধারণ’, দ্বিতীয়টিকে অবশ্যই বলতে হবে ‘দুর্দান্ত’! এখন কোন বছরটি তাঁর বেশি ভালো গেছে, বুঝে নিন।
২০১৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই সেঞ্চুরি, একই দলের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপটা বাদ দিলে গত বছরজুড়েই আশ্চর্য ধারাবাহিকতা। সেই ফর্মটা টেনে এনেছেন এই বছরেও। যদিও বছরের শুরুটা ছিল তাঁর সাদামাটা। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে খেলতে পারেননি জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ। কিন্তু প্রথম তিন ম্যাচেও জ্বলেনি ব্যাট। ৩ ম্যাচে ৫৩ রান।
মার্চে এশিয়া কাপে খেলবেন না—এমনটাই জানা গিয়েছিল। চোটে পড়ে মোস্তাফিজুর রহমান ছিটকে পড়লে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আকস্মিক দলে ফেরেন তামিম। কিন্তু ফেরেনি তাঁর ছন্দ। ২ ম্যাচে করেন মাত্র ২০ রান। এমন সাদামাটা তামিমই হঠাৎ বদলে গেলেন বড় আসর পেয়ে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই দেখা গেছে অন্য তামিমকে। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭৩ গড়ে ২৯৫ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটা করেছেন এই বিশ্বকাপেই। টুর্নামেন্ট বদলেছে, সংস্করণ বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু তামিম বদলাননি!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই দেখা গেছে অন্য তামিমকে। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭৩ গড়ে ২৯৫ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটা করেছেন এই বিশ্বকাপেই। টুর্নামেন্ট বদলেছে, সংস্করণ বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু তামিম বদলাননি!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই দেখা গেছে অন্য তামিমকে। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৭৩ গড়ে ২৯৫ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটা করেছেন এই বিশ্বকাপেই। টুর্নামেন্ট বদলেছে, সংস্করণ বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু তামিম বদলাননি!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর একটা লম্বা বিরতি, প্রায় ছয় মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। সময়টা জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা কাজে লাগিয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলে। এখানেও দুর্দান্ত তামিম। ১৬ ম্যাচে ৪৭.৬০ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরিতে ৭১৪ রান করে ছিলেন দুইয়ে। ৫ রানের জন্য শীর্ষে থাকা হয়নি বাঁহাতি ওপেনারের। তবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আবাহনীকে এনে দিয়েছেন লিগ শিরোপা।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও কথা বলেছে তামিমের ব্যাট। ৩ ওয়ানডেতে ১ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে ৭২.৬৬ গড়ে ২১৮ রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান। টেস্টে ইংল্যান্ড কেন তাঁর ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’, সেটি আবার বুঝিয়েছেন তামিম। অক্টোবরে ইংলিশদের সঙ্গে ২ টেস্টে ৫৭.৭৫ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরিতে ২৩১ রান করে ছিলেন শীর্ষে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টেও তামিম সমান উজ্জ্বল। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগেও ‘সুপার’ খেলেছেন। ৬ ম্যাচে ৬৬.৭৫ গড়ে ৩ ফিফটিতে করেছেন ২৬৭ রান করে ছিলেন শীর্ষ পাঁচে। সর্বশেষ বিপিএলেও রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন তামিম, ১৩ ম্যাচে ৪৩.২৭ গড়ে ৬ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রান করে ছিলেন সবার ওপরে। তাঁর ব্যাটিং দ্যুতিতে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল পর্যন্ত পার্শ্বচরিত্র হয়ে গেছেন!
তথ্য-পরিসংখ্যান সবই বলা হলো। বছরটা যে তামিম, ‘সুপারম্যান তামিমে’র—বলতে নিশ্চয়ই অসুবিধা নেই!
মোস্তাফিজ খেলবেন না কাল!
আলোচিত সংলাপ:
মুশফিকুর রহিম যে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলছেন না সেটা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই জানিয়ে দিয়েছেন। তবে নেলসনের কালকের ম্যাচের বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এটুকুই নয়। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে মোস্তাফিজুর রহমানকেও। এ ছাড়া সৌম্য সরকারের জায়গায় ওয়ানডে অভিষেক হতে পারে লেগ স্পিনার তানভীর হায়দারের।
দল সূত্রে জানা গেছে, ফিজিওর পরামর্শেই আজ বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে মোস্তাফিজকে। চোট থেকে মাত্র ফেরায় তাঁকে একটানা খেলাতে রাজি নন ফিজিও। মোস্তাফিজের পরিবর্তে দলে আসতে পারেন আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা পেসার শুভাশিস রায়। আর সৌম্য বাদ পড়ছেন ফর্মের কারণেই। সংবাদ সম্মেলনে কোচও দিয়েছেন সেরকম আভাস, ‘কেউ ধারাবাহিকভাবে পারফরম না করলে তো একটা পর্যায়ে বিকল্প ভাবতেই হবে।’ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পুরোপুরি না সারায় মুশফিক ছিটকে যেতে পারেন সিরিজের শেষ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও। তার জায়গা নিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হচ্ছে আরেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসানের। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত শুধু ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এই তরুণ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)




